
দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অর্থপাচার ও অর্থনৈতিক অনিয়মের কারণেই দেশের বর্তমান অর্থনীতি তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে জনগণের শক্তি ও নতুন রাজনৈতিক পরিবর্তনকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ দ্রুতই ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিকস’ (ডেইরা) আয়োজিত বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স ২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা এবং নতুন রাজনৈতিক পটপরিবর্তন দেশের সামনে বিরাট সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে তিনি ২০২৪ সালের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী ছাত্র-জনতার ত্যাগের কথা স্মরণ করেন।
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, তিনি কোনো পেশাদার বিশ্লেষক নন; বরং মাঠের রাজনীতির একজন কর্মী হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকেই দেশের রাজনীতি ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাকে উপলব্ধি করেছেন।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ব্যাখ্যায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক সংকট যেমন—ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর পড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিগত সময়ের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি ও অর্থপাচার।
এই পরিস্থিতি উত্তরণে সরকার ব্যাংক খাতকে কার্যকর করা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি আনার লক্ষ্যে কাজ করছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক বাজেটে শিল্প, কৃষি ও বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সাংবিধানিক সংস্কার ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ঐকমত্য তৈরির উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।
‘বাংলাদেশ এবং পরিবর্তনশীল বিশ্ব: অনিশ্চিত সময়, উদীয়মান বিশ্বব্যবস্থা ও যত্নের রাজনীতি’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই কনফারেন্সে দেশি-বিদেশি গবেষক, নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণী বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়।
Leave a Reply