‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১’ এবং সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ পদ্ধতিটির বিস্তারিত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
১. ভোটের মৌলিক নিয়ম
-
প্রকাশ্য ভোট: রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সাধারণ নির্বাচনের মতো গোপন ব্যালটে কোনো ‘টিক চিহ্ন’ বা ‘সিল’ ব্যবহার করা হয় না। সংসদ সদস্যরা প্রকাশ্য ভোটের মাধ্যমে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
-
ভোট সংখ্যা: প্রতিটি সংসদ সদস্য কেবল ১টি করে ভোট দেওয়ার অধিকার রাখেন।
২. ব্যালট পেপারের গঠন
প্রতিটি ব্যালট পেপারে মূল দুটি অংশ থাকে:
-
কাউন্টার ফয়েল (চেকমুড়ি): এখানে সংসদ সদস্যের (ভোটারের) নাম, নির্দিষ্ট ‘বিভক্তি সংখ্যা’ (Division Number) এবং স্বাক্ষরের জন্য আলাদা স্থান থাকে।
-
আউটার ফয়েল: ব্যালটের প্রধান অংশ এটি। এতে ভোটারের বিভক্তি সংখ্যার পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থীদের নাম বাংলা আদ্যক্ষর অনুযায়ী ক্রমানুসারে সাজানো থাকে। প্রতিটি প্রার্থীর নামের পাশে একটি নির্দিষ্ট ঘর নির্ধারণ করা থাকে।
৩. ভোট প্রদানের ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া
১. ব্যালট সংগ্রহ: একজন সংসদ সদস্য প্রথমে তাঁর নির্দিষ্ট ব্যালটের কাউন্টার ফয়েলে নিজের পূর্ণ নাম ও স্বাক্ষর প্রদান করে ব্যালট পেপারটি সংগ্রহ করবেন।
২. পছন্দের প্রার্থী নির্বাচন: এরপর আউটার ফয়েলে থাকা প্রার্থীদের মধ্য থেকে তিনি যাকে ভোট দিতে চান, সেই প্রার্থীর নামের পাশের নির্ধারিত ঘরে তাঁর নিজের পূর্ণ নাম ও স্বাক্ষর দেবেন।
৩. ব্যালট জমা: স্বাক্ষর সম্পন্ন হলে আউটার ফয়েল অংশটি নির্দিষ্ট ব্যালট বাক্সে ফেলবেন।
৪. কেন এটি প্রকাশ্য ভোট?
ব্যালট পেপারের আউটার ফয়েলে ভোটার তাঁর নিজের পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করায় গণনার সময় খুব সহজেই স্পষ্ট হয়ে যায় কোন সংসদ সদস্য কোন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটিতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা থাকে।